ঢাকা , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ , ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মনীষার সঙ্গে বিচ্ছেদ যেভাবে ভেঙে দিয়েছিল নানা পাটেকরকে

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৫:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৫:৫৯:৪১ অপরাহ্ন
মনীষার সঙ্গে বিচ্ছেদ যেভাবে ভেঙে দিয়েছিল নানা পাটেকরকে ​ফাইল ছবি
অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের খবর ঘিরে শোকের আবহে সামনে এসেছে অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার সঙ্গে তার সম্পর্কের পুরোনো অধ্যায়। নব্বইয়ের দশকে এই দুই তারকার প্রেমের গুঞ্জন একসময় বিনোদনজগতের আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছিল। সম্পর্কের পরিণতি বিচ্ছেদে হলেও মনীষার প্রতি নানার শ্রদ্ধা ও মমতার কথা উঠে এসেছিল বিভিন্ন সময়ে। এমনকি বিচ্ছেদের পরও প্রাক্তন প্রেমিকার প্রতিভার প্রশংসা করতে পিছপা হননি এই অভিনেতা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গোয়ায় নিজ বাসভবনে নানা পাটেকরের জীবনাবসান ঘটে। একই দিন রাতে পুনেতে তার খামারবাড়িতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। তার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন পরিবার, সহকর্মী ও ভক্তরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মনীষা কৈরালাও।

নব্বইয়ের দশকে ‘খামোশী’ ও ‘অগ্নিসাক্ষী’র মতো সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন নানা ও মনীষা। পর্দায় তাদের কাজ প্রশংসিত হলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে তখন থেকেই নানা আলোচনা চলছিল। ইন্ডাস্ট্রির সূত্র অনুযায়ী, ‘যুগপুরুষ’ সিনেমায় কাজ করার সময় তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। একপর্যায়ে আলাদা হয়ে যান দুজন।

বিচ্ছেদের পর দীর্ঘদিন নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কথা বলেননি কেউই। তবে ১৯৯৭ সালে একটি প্রিন্ট মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন নানা। আবেগ সামলাতে না পেরে সেদিন তার চোখে জল চলে এসেছিল বলেও জানা যায়।

সাক্ষাৎকারে নানা বলেছিলেন, ‘খুব কঠিন সময় ছিল। এই যন্ত্রণা বুঝতে হলে নিজেকে সেই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। আমি যে কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। দয়া করে, এ নিয়ে আর কথা বলবেন না। মনীষাকে খুব মনে পড়ে।’

সম্পর্ক ভেঙে গেলেও মনীষার অভিনয়প্রতিভার প্রতি শ্রদ্ধা অটুট ছিল নানার। অভিনেত্রীকে নিয়ে এক মন্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘মনীষার প্রতিভা সহজাত। সে আমার দেখা সবচেয়ে সংবেদনশীল অভিনেত্রীদের অন্যতম। সে অনেকটা কস্তুরীমৃগের মতো। তাকে বুঝতে হবে যে অন্য কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার প্রয়োজন নেই। তার নিজের মধ্যেই সব রয়েছে এবং সেটাই যথেষ্ট।’

অন্যদিকে, সম্পর্ক ভাঙার পর মনীষার ব্যক্তিগত জীবনও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে নিজের ‘হিলড’ স্মৃতিকথায় অতিরিক্ত মদ্যপানের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তিনি লিখেছিলেন, ‘শুটিংয়ের চিন্তা থেকে মন সরাতে এবং নিজেকে অসাড় করে রাখতে মদ্যপান শুরু করেছিলাম। ডায়েট করার সময় ভদকার ওপর নির্ভর করতাম।’

মনীষার এমন পরিস্থিতি দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নানা। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য ছিল, ‘সে নিজের সঙ্গে যা করছে, তা দেখলে আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারি না। হয়তো আজ তার বিষয়ে কিছু বলার অধিকারও আমার নেই।’

উল্লেখ্য, মনীষার সঙ্গে সম্পর্কের সময় নীলকণ্ঠীর সঙ্গে নানার বৈবাহিক সম্পর্ক আইনিভাবে বহাল ছিল। যদিও তাঁরা আলাদা থাকতেন। অন্যদিকে, ২০১০ সালে ব্যবসায়ী সম্রাট দহালকে বিয়ে করেন মনীষা। তবে দুই বছরের মাথায় সেই দাম্পত্যের ইতি ঘটে।

নানার প্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে মনীষা লিখেছেন, ‘একজন মহান অভিনেতা ও অভিনয়শিল্পের প্রথিতযশা স্তম্ভের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। চলচ্চিত্রে তার অবদান এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা চিরকাল মনে রাখা হবে।’

নানা পাটেকর ও মনীষা কৈরালার সম্পর্কের গল্প তাই শুধু প্রেম ও বিচ্ছেদের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ নয়। বিচ্ছেদের পরও একজন শিল্পীর প্রতি অন্য শিল্পীর শ্রদ্ধা এবং পুরোনো সম্পর্কের আবেগ তাঁদের জীবনের এই অধ্যায়কে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ